ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪
মূল প্রার্থী দুজন এ সময়ে আপ্রাণ কসরত করছেন ভোটারদের স্বপক্ষে টানার। ফাউল প্লে করে ট্রাম্প শিবির নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দারুণ বেকায়দায়। আট লাখের ও বেশী পোয়েট্রোরিকান ভোটার চরম ভাবে বিগড়ে গেছে। এবার এদের অধিকাংশই ট্রাম্পকে ভোট দেবে এমন ধারনা ছিল রাজনীতির পন্ডিতদের। কিন্তু, নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের যে মঞ্চ থেকে ট্রাম্প ২০২৪ নির্বা সমাপনই ভাষণ দিয়েছেন সেখানে একজন কৌতুক বক্তা পোয়েট্রোরিকুকে আবর্জনা দেশ (garbage Island) বলায় আবেগই স্বদেশ প্রেমিকরা ক্ষেপে গেছে। উল্লেখ্য যে লাতিনোদের মধ্যে এরা সর্ব বৃহৎ গ্রুপ।
এদের শ’য়েরও বেশী রেডিও স্টেশন এবং হোস্ট সমানে ট্রাম্পকে গালিগালাজ করছে যদিও তিনি সাফাই গাইছেন এই বলে যে তিনি এই কৌতুক অভিনেতাকে চিনতেন না। আরও বলছেনঃ তার মত পোয়েটরোরিকানদের পছন্দ করেন এমন দ্বিতীয় কেউ নেই। দু’টো প্রলয়ঙ্ককরী সাইক্লোনের পরবর্তীতে তিনি সেখানে চিকিৎসা জাহাজ পাঠিয়েছেন এ কোথা গর্ব করে বলেছেন যদিও বার বার অনূরোধ উপরোধ সত্ত্বেও তেমন অর্থ সাহায্য, খাবার সামগ্রী পাঠাননি। এ সত্য নগ্ন ভাবে প্রকাশ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে সারা যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষত পেন্সালভানিয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ট্রাম্প দারুণ দুর্ভাবনায় আছেন। কমালা হ্যারিস এ স্টেটটিতে জিতে যাবেন নিশ্চিত।
অবশ্য এর মধ্যে একটি ঘটনা ঘটে গেছে। ট্রাম্পের সমর্থকদের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গারবেজ বলায় রিপাবলিকান নেতারা সুযোগ নিচ্ছেন। ইউ এস এ টুডে (USA TODAY) পত্রিকার এক নিবন্ধে বিষয়টি এমন ভাবে এসেছে, “Yet HarrisÕ pitch was almost immediately overshadowed by President Joe Biden, who „ refer to Trump supporters as ÒgarbageÓ (see USA TODAY, Oct. 30, 2024, Joey Garrison).
প্রেসিডেন্ট প্রায় সাথে সাথেই এ ব্যাপারে তিনি কি বুঝিয়েছেন তা পরিষ্কার ভাবে বলেছেন। তবে, যৎসামান্য হলে কমালার ক্ষতি হতেই পারে।
২০২৪ ইলেকশানের ফলাফল নিয়ে যতই জল্পনা কল্পনা হউক না কেন, কোন পণ্ডিতই সামান্যতম নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কে জিতবে। অনেকে বলছেন ২০০০ সনের বুশ-গোর প্রেসিডেন্ট নির্বচনের মত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এবং ঐ নির্বাচনের মত কোর্টে গড়াবে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ২০০০ সালে ফ্লোরিডাতে দুই প্রাথীর ফলাফলে ব্যবধান ছিল মাত্র ৫৩৭। সুপ্রিম কোর্ট বুশকে বিজয়ী ঘোষণা করলে তিনি প্রেসিডেন্ট হন। এবারের নির্বাচনে ও এখন পর্যন্ত পরিষ্কার ভাবে বুঝা যাচ্ছেনা কে বিজয়ী হবেন।
আমার ধারণায়, ট্রাম্প এবং তার সমর্থক নেতা কর্মীরা যে জগণ্য ভাষায় কমালা হ্যারিসকে ব্যক্তিগতভাবে গালমন্দ করছেন তাতে ভোটাররা ট্রাম্পের প্রতি বিরক্ত হচ্ছেন প্রচুর। অর্থনীতি অনেকাংশে চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে। মানুষ বুঝতে শুরু করেছে যে ট্রাম্প নিজের এবং বিত্তবানদের স্বার্থের বাইরে গিয়ে সাধারণ খেতে খাওয়া মানুষ, নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত, ছোট ব্যবসায়ী, শোলয় আয়ের ব্যবসায়ী এদের সুযোগ সুবিধার প্রতি পরোয়া করেন না। তার রাজনীতি, অর্থনীতি সবই বিভাজনকে বারিয়ে দিচ্ছে। পররাষ্ট্র নীতিতে সুস্পষ্ট রাশিয়া প্রীতি, নর্থ কোরিয়ার মত একনায়কতন্ত্রবাদী দেশের সাথে সবিশেষ বন্ধুত্বকে সুনজরে এদেশের মানুষ দেখেনা এসত্য কেউ তেমন জোরালোভাবে অস্বীকার করতে পারবেনা। আমেরিকার আদর্শের সাথে ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মিত্রদের মূল্যবোধ ও জীবন দর্শন সাংঘর্ষিক এ কথ , উপলব্ধি ধ্রুব সত্য। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস নির্বচনের মাঠে নেমেছেন মাত্র তিন মাস হলো। এর মধ্যেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রিপাবলিকান নেতা কর্মী তার পক্ষে ভিড়েছেন।
এ সংখ্যা বাড়ছেই। যে সাতটি রাজ্য এ নির্বাচনের ফলাফলে বিস্তর প্রভাব ফেলবে সেগুলোতে দু’প্রার্থী প্রায় সমানে সমানে। তবে পোয়েট্রোরিকান দ্বীপ রাজ্যকে গারবেজ হিসেবে আখ্যায়িত করার মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া নির্বাচনে ট্রাম্পকে পরাস্ত করতে বিষক্রিয়ার মত কাজ করবে। কমালা হ্যারিস প্রতিনিধি ভোটে জিতে যাবেন মনে হচ্ছে।
Posted ১:২২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh