ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ | বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৪
পুরোপুরি ফলাফল পাওয়া যায়নি কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে জিতেছেন এ সত্য সুস্পষ্ট। ইলেকটোরাল ম্যাপে যেখানে ২৭০ জেতার জন্য নির্ধারিত সেখানে তিনি পেয়েছেন ২৯২ ভোট। কমালা হ্যারিস ২২২পেয়ে হেরে গেলেন। ভোটদান, গণনা বেশ স্বচ্ছ ভাবে হয়েছে। দু’একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, রাশিয়ার সম্পৃক্ততার গুজব ছাড়া তেমন কিছু ঘটেনি যা ভোট প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবোধক করতে পেরেছে। তবে, ২০২৪ নির্বাচন বেশ কিছু কারণে উল্লেখযোগ্য হওয়ার দাবী রাখে, প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত দেয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঘটার।
পরোক্ষ ভাবে প্রভাব পড়তে পারে এমন বিষয় আছে আভ্যন্তরীণ, আন্তর্জাতিক উভয় পরিমন্ডলেই। ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ফিরে আসতে পারাটা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্চর্য এক ঘটনা। প্রচুর সংখ্যক মামলা-মোকদ্দমার বেড়াজাল ডিঙিয়ে এদেশে ইতিপূর্বে কেউ দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হতে পেরেছেন এমন উদাহরণ নেই। কমালা হ্যারিসকে সমর্থন দেওয়ার মতো অনেক মহারথী মাঠে ছিলেন। সে তুলনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত এককভাবে নির্বাচনের মাঠ গরম রেখেছেন। রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত কোন প্রাক্তণ প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট তার সমর্থনে সোচ্চার ছিলেন না, ক্যাম্পেইন করা তো দুরে থাকুক। সব দূর্বিপাক পেরিয়ে, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। সিনেটে ও তার দল সংখ্যাগরিষ্ট যা তার জন্য বড়ো পাওনা। জনপ্রিয় ভোটেও ডোনাল্ড ট্রাম্প কমালার চেয়ে অনেক এগিয়ে। সঠিক পরিসংখ্যান এখনো জানা যায়নি তবে তা আশাতীত।
আভ্যন্তরীন ফ্রন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনীতি চাঙ্গা করে বাজারে যাতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম সুলভ হয় তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলেছেন। তাছাড়া , অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়ন, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা হবে বলে তার দৃঢ সংকল্পের কথা বার বার বলেছেন। তবে, মেক্সিকান সীমান্ত বন্ধ করে অবৈধ প্রবেশ প্রতিহত করলে আমেরিকার শ্রম বাজারে, বিশেষত কৃষি শ্রমিকের ঘাটতি এবং স্বল্প পারিশ্রমিকে শ্রমিক পাওয়ার বিকল্প নিয়ে তিনি কিছু বলেননি। এদেশে বৃহৎ সব কৃষি খামার মেক্সিকান শ্রমিকদের উপর নির্ভরশীল। এদের এবং এ সীমান্ত দিয়ে আশেপাশের দেশের শ্রমিকদের আসা বন্ধ হলে কৃষি উৎপাদন দারুণ ভাবে ব্যাহত হবে। অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাবে অনেক ধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বেড়ে যাবে, বিদেশে কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানী বাজার দারুণভাবে সংকুচিত হবে। খামার মালিকদের অসন্তোষ ট্রাম্প সরকারকে বেকায়দায় ফেলবে নিশ্চিতভাবে ।
আন্তর্জাতিক ফ্রন্টে ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধাবস্থতার অবসান অবলীলাক্রমে অতি অল্প সময়ে করতে সক্ষম হবেন বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইরানের নিউক্লিয়ার স্হাপনা ইসরায়েলকে দিয়ে বিধ্বংস করবেন বলে বলেছেন। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের মীমাংসা করে দেবেন এমন কথা অনেকবার বলেছেন। চীনের সাথে বাণিজ্যে উঁচ্চ হারে ট্যারিফ আরোপের ঘোষণার পরিণতি কতটা শুভ হবে তা দেখার অপেক্ষায় অনেক মহল। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠি, লেবাননে ইরানের মদদপুষ্ট শিয়া হিজবুল্লাহ এবং বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ইসলামিক দল এদের তৎপরতা মোকাবিলা ট্রাম্পের জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জ। তাইওয়ানের ব্যাপারে চীনের নিত্য হুমকি এবং হুংকার ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামাল দিতে হবে। মিত্র হিসেবে রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, ইসরায়েল, সৌদি আরব কতটা নির্ভরযোগ্য এ যেমন নিত্য ভাবনার বিষয় হবে তেমনি ন্যাটো, জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে ও ভাবতে হবে।
Posted ১২:৫২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh