ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
আজারবাইজেনের বাকু নগরীতে গত সোমবার থেকে দুই সপ্তাহব্যাপ্তী কপ ২৯ সম্মেলন শুরু হয়েছে। এতে যোগদানকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতা জন পদেস্টা বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন থেকে আগত নেতা, আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে বলেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হয়েছেন এ কারণে দেশটিতে ফসিল ফুয়েল উত্তোলন ও ব্যবহার বাড়বে সত্যি তবে জলবায়ু দূষণরোধ আন্দোলন ও প্রক্রিয়া এ কারণে বড়জোর মন্থর হয়ে যেতে পারে, কিন্তু বন্ধ হবে না। এদিকে,বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ সেলসিয়াসে নিয়ে আসা সম্ভব এ আশাবাদ ক্রমান্বয়ে নিরাশার দিকেই ধাবিত হচ্ছে। প্যারিস চুক্তি ২০১৫ সালে সম্পাদিত হয় সারা বিশ্বের ১৯৬ দেশ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সর্বসম্মতিক্রমে।
প্যারিস সম্মেলন বিশ্ববাসীকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল জলবায়ু দূষণরোধ, পরিবেশ এবং প্রতিবেশ সুরক্ষার কিন্তু কপ২৯ অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাক্কাালে বলা হচ্ছে বিশ্বের তাপমাত্রা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২ সেলসিয়াসে পৌঁছে গেছে। ২০৩০ এর মধ্যে তাপমাত্রা ৩ বা টার বেশী মাত্রায় পৌঁছে যাওয়ার মমুহ সম্ভাবনা। প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে মনে করা হয় জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিশ্ব মাঠে অত্যন্ত জোরালো একজন প্রবক্তা। ২০৫০ এর মধ্যে শূন্য চারবোন নিঃসরণ করার প্রত্যয় যে দেশটির প্রেসিডেন্ট দিয়েছেন তারই প্রশাসন ২০২৩ সালে উইলো প্রজেক্ট অনুমোদন করে। এ প্রকল্প থেকে যুক্তরাষ্ট্রআলাস্কার ফেডারেল ভূমি থেকে খনিজ তেল উত্তোলন করবে যার পরিমাণ আগামী তিরিশ বছরে ৬০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করবে।
হিউস্টনস্থ কনকোফিলিপ্স (Houston based company ConocoPhillips) প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলশ্রুতিতে আনুমানিক ৯.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন নিঃসরণ করবে । খুব সামান্য পরিমাণে ক্ষতি হলেও প্রেসিডেন্ট বাইডেনের দেয়া প্রতিশ্রুতি এতে কিছুটা হলেও লঙ্ঘিত হয়েছে । যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের অ্যাক্ট এ গ্রিন এনার্জি ব্যবহার করার উপর যে সবিশেষ জোর দেয়া হয়েছে তার উদ্দেশ্যের সাথেও প্রকল্পটি সাংঘর্ষিক।
চীন ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ২০৩৯ সাল থেকে দেশটি কার্বন নিংসরন কমিয়ে দেবে। বাস্তব হল চীন ২০১৫ সাল থেকেই কয়লাকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের অতি বৃহৎ প্রকল্প ব্যস্তবায়ন করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন- এ সবে ও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে যা প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষিত করছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে নিশ্চিতভাবে সহায়কের ভূমিকা রাখছে। জাতিসঙ্গের International Panel on Climate Change (IPCC) অভিমত অনুসরণ করলে বলতে হয় ২ ডিগ্রি উষ্ণতা বাড়লে ৯০% কোরাল রিফ মরে যাবে, বিশ্বের ৪০ শতাংশ মানুষ অসহ্য গরমে অসুস্থ হয়ে পড়বে,চিরহরিৎ আমাজনের অর্ধেকাংশ ধ্বংস হয়ে যাবে, ১৬% উদ্ভিদ বিলীন হয়ে যাবে, ১.৬ বিলিয়ন ফিশারিস, এবং এক-পঞ্চমাংশ কীটপতঙ্গ তাদের আবাস স্থান হারাবে। কয়েক শত মিলিয়ন মানুষ জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে উদ্বাস্তু হয়ে অনাহার, দুর্ভিক্ষ, রোগবালাই, বায়ুদূষণ ইত্যাদি কারণে এবং পারস্পরিক সংঘর্ষে প্রাণ হারাবে।
উপরে বিধৃত অবস্থার আলোকে আমাদের বিবেচনা করতে হবে বাকু কপ২৯ সম্মেলন মানব জাতিকে, বিশ্বের তাবৎ সৃষ্টি বাঁচিয়ে রাখতে কি উপহার দেবে। মনে রাখতে হবে, এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ অনেক দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা অংশ গ্রহণ করছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে তার অনীহা, অবিশ্বাস অনেকবারই ব্যক্ত করেছেন। রাশিয়া,ভারত,উত্তর কোরিয়া, এমনকি ব্রাজিল এবং সৌদি আরব তার সাথে এ বিষয়ে মোটামুটি একাত্ম বলেই মনে হয়। এমতাবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন হিসেবে অদূরভবিষ্যতে একটিভিস্ট এবং এনজিওদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। (চলবে)
১১ নভেম্বর ২০২৪, লং আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক
Posted ১২:৪৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh