ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৪
উৎসবের এ দিনটি টার্কি ভোজনের দিন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্থ থেকে, এমনকি বিদেশে আছেন এমন আমেরিকান নাগরিক ও ছুটে আসে প্রিয়জন, আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীর সাথে ভোজে অংশ নিতে, হাসিখুশী, পানাহারে তথা আনন্দ পরিবেশে দিনটি কাটাতে। দিনটি পালিত হওয়ার ইতিহাস ঘাঁটলে শস্যকর্তন বা নবান্ন উৎসবের সাথে সংযুক্তি অবশ্যই খুঁজে পাওয়া যায়। আমেরিকায় বর্তমান সময়ে যে অবয়বে এবং মূল্যবোধের আকরে থ্যাংকস গিভিং পালন করা হয় তা প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে এ দেশে প্রবর্তিত হয়েছিল যদিও এর প্রতিষ্ঠা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক পূর্বেই পালন করা হতো।
ইংল্যান্ড থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা লাভের আশায় ১৬২০ এবং ১৬৩০ সময়ে পিলগ্রিম এবং পিউরিটানরাা (Pilgrims and Puritans) ইংল্যান্ড থেকে এ দেশে পাড়ি দেয় । এরাই থ্যাংকস গিভিং ধারনা নিয়ে আসে । ১৬২১ সালে ফ্লিমাউথো (Plymouth, Massachusetts) অনেকটা বর্তমান আঙ্গিকে যে থ্যাংকস গিভিং উৎসব হয়েছিল তা কয়েক বছরের ব্যবধানে ফসলের ভাল ফলন হওয়ার সুবাদে ওয়াম্পানুজ এবং পতুক্সেট গোত্রের সম্মিলিত উদ্যোগে পালিত হয়। ইউরোপ থেকে আগত অভিবাসীরা বিগত শিতে খাবার দাবারের দারুণ বিপত্তি ও সময় কষ্টের সময় আদি বাসিন্দাদের কাছ থেকে যে সহায়তা পেয়েছিল তার জন্য ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাতে থ্যাঙ্ক গিভিং ভোজের আয়োজন করে। এটি ছিল এ দেশে থ্যাঙ্ক গিভিং উৎসবের পূর্বাবস্থা।
২০২৪ সালে থ্যাংকস গিভিং উৎসবের প্রাক্বালে ডোনাল্ড ট্র্যাম্প বিরাট সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী তাড়াতে যে কর্মসূচী নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন তা প্রায় তিন মিলিয়ন মানুষকে এবং পরিবার পরিজনদের মানসিক ভাবে বিষাদ গ্রস্থ করে ফেলেছে এ ধারনা অত্যন্ত সংগত। এদের বিশেষ ভাবে নির্মিত ক্যম্পে আটকিয়ে রাখা এবং বিতাড়িত করার মানসিক, আর্থিক এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হতে বাধ্য। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির উপর এর পরিনতি হবে ভয়ংকর।
ইতিমধ্যেই বড়ো বড়ো ফার্ম মালিকরা চাপ প্রদানকারী দল হিসেবে সতর্কবাণী প্রচার করছে , মেক্সিকান শ্রমিকরাই মূলত তাদের কৃষিকাজ করে থাকে। এদের বিতাড়ন করা হলে পুরো কৃষি ব্যবস্থায় ধ্বস নামবে নিশ্চিত। শুধু আমেরিকা নয়, সারা বিশ্বেই খাদ্য সংকট বেড়ে যাবে। লাভবান হবে চীন এবং আরও কতিপয় প্রতিযোগী দেশ। উল্লেখ্য করা যেতে পারে, কৃষি সেক্টর ছাড়া ও পরিচ্ছন্ন কর্মী বাহিনীতেও অবৈধ অভিবাসী নারী পুরুষেরই আধিক্য। শ্বেতাঙ্গ অধিবাসীদের এ ধরণের কাজকর্ম করতে খুব কমই দেখা যায়। কৃষ্ণাঙ্গদের নিম্ন মজুরির কাজে দেখা যায় তবে একটা বড় অংশ সরকারি সহায়তা কর্মসূচীর থেকে ভরন পোষণ, চিকিৎসা ইত্তোকার আয়ের বাড়তি হিসেবে গোপন ভাবে এ সব কাজ করে। কৃষি, শিল্প কারখানা, শহর বন্দর সাফসুতরো রাখা, বর্জ্য পরিষ্কার, গৃহ নির্মাণ সহ পরিশ্রমের কাজ সম্পাদনে দক্ষ, অথচ তুলনামূলক ভাবে সস্তা শ্রম শক্তির অভাব প্রকট ভাবে অনুভূত হবে বলে ধারনা করা অমূলক হবে না।
জলবায়ু পরিবতনে জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রকে অবিবাংসিত নেতৃত্ব পদে সমাসীন করেছিলেন। জাতিসঙ্গের কপ২৯ সম্মেলনে যোগদানকারী দেশগুলোর মধ্যে যে বিভক্তি স্পষ্ট ভাবে দেখা গেছে তাতে মনে হসছে এ সমাদৃত আসনটি চীনের হাতে চলে যাবে। প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ট্র্যাম্প জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বাস করেন না যেমন করেন না তেল এবং গ্যাসের বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের উপকারিতায়। চীন ইতোমধ্যেই জলবায়ু-বান্ধব প্রযুক্তি যেমন ইলেকট্রিক জান বাহন এবং সোলার প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জন্য সোলার প্যানেল প্রস্তুত ও ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক অগ্রগামী, বিশ্বে শীর্ষ স্থানে ওঠে গেছে।
আফ্রিকা, এশিয়ার রমরমা বাজার দখল করে নিয়েছে। কলাম্বিয়া, কেনিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক ইত্যাকার দেশে সোলার পাওয়ার শিল্পের একচেটিয়া বাজার চীনের। আমেরিকার সাথে ট্র্যাম্পের শাসনামলে অতি উচ্চ শুল্কহারের কারণে ভিন্ন পথে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আমেরিকায় ব্যবহার করা সোলার প্যানেলের এক তৃতীয়াংশ চীনে তৈরি। চীন এবং মেক্সিকো এ দুটি দেশের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের ট্র্যাম্পের সিদ্ধান্ত আমেরিকার জন্য কতটা কল্যাণকর হবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। জলবায়ু কূটনীতিতে ট্র্যাম্প শোচনীয়ভাবে পিছিয়ে পরবেন যেমন দুর্দশা হবে মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধেও। ইতোমধ্যেই সোলার, বায়ু (উইন্ড), ব্যাটারি, ইলেকট্রিক যান এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে প্রচুর আয় করছে চীন।
Posted ১:৪০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh