ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪
সিরিয়া তথা সারা আরব জাহানের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে আলেপ্পো সুপরিচিত সেই আদিকাল থেকেই। খ্রিষ্টপূর্ব আড়াই হাজার বছর পূর্ব থেকেই এ বাণিজ্য নগরীর হাত বদল হয়েছে অনেক বার। ভুমধ্যসাগার এবং সেন্ট্রাল এশিয়ার সংযোগকারী আলেপ্পো নগরী পদানত করতে অন্যান্যদের মধ্যে গ্রীক রোমান শক্তি, মোঙ্গল, পারসিক, আরব, মামুলেক এবং অটোম্যান সম্রাট, রাজা-বাদশা যুদ্ধ করেছে দেদারসে। তবে নগরীটিকে স্থায়ীভাবে, দীর্ঘ সময়ের জন্য কব্জা করে রাখতে পারেনি কোন শক্তি। ক্রুসেডের ফলশ্রুতিতে আশেপাশের অধিকৃত জনপদের ক্রিস্টিয়ান শাসকদের আক্রমণের স্বীকার হলেও পর্যদুস্ত করা যায়নি। ইতিহাস ঘাঁটলে প্রতীয়মান হয় সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং তার পিতা সিরিয়ায় তাদের শাসন যে ভাবে দীর্ঘস্থায়ী করতে পেরেছেন আর কেউ ইতিপূর্বে তেমনটি পারেনি। আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী কুশলী এবং কঠোর প্রকৃতির শাসক বাশার আল-আসাদের জনপ্রিয়তা তেমন না থাকলেও রাশিয়া, ইরান এবং ইরাকের সক্রিয় সমর্থনে বহাল তবিয়িেত আছেন।
২০১১ সালে সংঘটিত বিদ্রোহ সামাল দিয়ে বর্তমান বিশ্বে একজন সফল ডিক্টেটর হিসেবে ঠিকে আছেন। তুরস্ক ও তাকে মদদ দেয় যাতে সেখানকার বিদ্রোহী দলগুলো তেমন সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে। তবে,অতি সম্প্রতি সিরিয়ার বিদ্রোহীদের একটি দল হায়াত তাহিরি আল-শামস ঝড়ের গতিতে আলেপ্পো এবং নিকটবর্তী অনেক কয়টি জনপদ দখল করে নেয়। বিগত তেইশ বছরের ও বেশী সময় ধরে গৃহ যুদ্ধের ডামাডোলে সুযোগ নিয়ে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমের গ্রামাঞ্চলে নিজেদের একটি বৃহৎ দলের আশ্রয়ে (organization for the Liberation of Greater Syria) থাকা হায়াত তাহির আল-শামস তার বাহিনী নিয়ে প্রথমে আলেপ্পু এবং এর এক সপ্তাহের মধ্যে বড় ধরণের তিনটি বিজয় লাভ করে রাজধানী দামেস্কের দিকে ধাবিত হয় । বিদ্রোহীদের একজন সেনাধ্যক্ষ জেনারেল আহমেদ হোমসির ভাষ্যে We succeeded in breaking the first line and then the second and third, continuing he said, We hit positions of the leadership and succeeded in cutting off communications between them and their troops. That created big chaos forthem, It was a big psychological defeat.
জীবিত অথবা মৃত তাহির আল-শামসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল বেশ অনেক আগেই। তার দলটি সংক্ষেপে HTS বলা হয়। এক সময় আল কায়েদার সংশ্রবে ছিল। তখন সংগঠনটি জাবাত আল-নুসরা নামে পরিচিত ছিল। এক সময়ের ভয়ংকর টেররিষ্ট সংগঠন এখন আন্তর্জাতিক ইসলামপন্থী কর্মকাণ্ড পরিত্যাগ করে উদারপন্থী ধর্মীয় এবং সিরিয়াভিত্তিক জাতীয়তাবাদী সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে। দামেস্ক থেকে ২০১১ বিদ্রোহের সময় ইদ্রিব বিভাগীয় রাজধানীতে ছলে যায় । আরও অনেক কয়টি আঞ্চলিক দল সমন্বয়ে তাহির আল-শামস শক্তি সঞ্চয় করে এবং প্রশিক্ষিত সামরিক বাহিনী গড়ে তোলে।
আসাদের মিত্র পক্ষ রাশিয়া, ইরান, হিজবুল্লাহ, ইরাক ইতোমধ্যেই বিদ্রোহীদের দমন করতে কয়েক দফা বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। স্থল যুদ্ধে হিজবুল্লাহ এবং ইরাকি সেনা বিদ্রোহীদের মোকাবেলা করছে। তুরস্ক এ যুদ্ধাবস্থা নজরে রাখছে সতর্কতার সাথে কারণ দেশটির বিদ্রোহী দলগুলোর সাথে তাহিরী গ্রুপের যোগসাজশ রয়েছে। সিরিয়ার সৈন্যরা সামনা-সামনি যুদ্ধে তেমন সুবিধা করতে পারছে না।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের সাথে নতুন একটি ফ্রন্টে শামিল হয়েছে যা পুতিন এর জন্য তেমন সুখকর হবেনা। প্রক্সি যুদ্ধে ইয়ামেনের হুতিদের জড়ানোর জোর প্রচেষ্টা চলছে। বিদ্রোহ দমন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হয় রাশিয়ার জন্য ততই মঙ্গল । এদিকে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আমেরিকা তাহেরি আল-শামসকে টেরর তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিতেও পারে। ২০১২ সালে যখন তালিকাভুক্তি করা হয়েছিল তখন দলটি ইরাকের আল-কায়েদায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন দলটি জাতিসংঘের সাথে ত্রাণ কাজে অংশ নেয়। বিরোধ যত তা সীমাবদ্ধ বাশার আল-আসাদ এবং ইরান, ইরাক, সমর্থিত শিয়া বাহিনীর সাথে। তুরস্কের শিয়া বিদ্রোহী দলগুলোও তাহেরী গ্রুপের সাথে একাত্ম হয়ে আসাদের সেনা বাহিনী এবং এবং ইরান সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে লড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের এ দামামা বিরাজমান অশাটিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে নিশ্চিতভাবে।
Posted ১:০৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh