ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা গেছে বরাবরই ছোট দেশগুলোকেই যাদের কার্বন নির্গমনে ভূমিকা অত্যন্ত নগণ্য। বিশ্বের তাপমাত্রা বর্তমান পর্যায়ে নিয়ে আসতে আমেরিকা, চীন, ব্রাজিল, সৌদি আরব, ভারত, রাশিয়া এবং অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশগুলো মুখ্য ভূমিকা রেখে চলেছে সিল্পবিপ্লবের উন্মেষ থেকেই, পত্রপল্লবিত হচ্ছে খনিজ তেলের অত্যধিক ব্যবহারের কারণে, প্রভাবে। বিশ্বের বেশিরভাগ রাষ্ট্র একমত হয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটা সীমারেখা বেঁধে দিয়েছিল (৫.৫ডিগ্রী সেলসিয়াস) কিন্তু প্যারিস সম্মেলনে গৃহীত সম্মতি, নীতিমালা এবং কৌশল এসবকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে শিল্পোন্নত দেশগুলো কয়লা, তেল এসবের ব্যবহারে উন্নয়ন, সমৃদ্ধির উচ্চতর শিখরে পৌঁছতে প্রতিযোগিতায় মগ্ন।
যুদ্ধ সরঞ্জামাদি তৈরি থেকে শুরু করে যানবাহন, শিল্পসম্ভার, গ্রহ-উপগ্রহ, মেরু, মরু অঞ্চল পরিদ্রুত বা explore করা, কৃষি আধুনিকীকরণ ইত্তাকার সবকিছুতেই এনার্জি ব্যবহার করতে হয়। ভূমণ্ডল, সমুদ্র, আকাশ সর্বত্র উষ্ণতা বাড়ে অত্যধিক কার্বন নিঃসরণের ফলশ্রুতিতে। জলবায়ু পরিবর্তন অবাধ গতিতে প্রভাবিত করে, বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় আমাদের পরিবেশে, প্রতিবেশে। সাইক্লোন, মরুকরণ প্রক্রিয়া, শৈত্য প্রবাহসহ অনেক সৃষ্টি বিলীন হয়ে যায় দ্রুত লয়ে। জীব জন্তু, কীট-পতঙ্গ, মৎস্য, পাহাড়, পর্বত, নদ-নদী, বিভিন্ন আকারের জলাশয় কোন কিছুই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে রেহাই পায় না।
অনেকের মতে, ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে বিশ্ব রাষ্ট্র সমূহ যাতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে সে রকম কিছু মুল্যবোধ, আচার আচরণ (Norms) প্রণয়ন এবং শিথিলভাবে হলেও বিধিবদ্ধ করার অনুভূত প্রয়োজন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক কোর্ট অব জাষ্টিস নামের প্রতিষ্ঠানটিকে। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, শান্তি বজায় রাখার সুমহান উদ্দেশ্য সামনে রেখে সৃষ্টি হলেও বাস্তবে তা তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। এ প্রতিষ্ঠানটির কাঁধে এবার জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত অতি জটিল একটি সমস্যার সুবিচারের দায়িত্ব পড়েছে। নেদারল্যন্ডস্থ দি হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ১৫ জন বিচারকের প্যানেল সমীপে ১০০টি দেশ এবং সংগঠনের হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ ভানুয়াতু (Vanuatu) এবং সেখানকার আইন অধ্যয়নরত ছাত্ররা অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে এডভাইজরি শুনানি ত্বরান্বিত করার জন্য আবেদন করেছে। উল্লেখ্ করা যেতে পারে যে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের বলি হতে পারে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৪.৫ মিলিয়ন মানুষ। অন্যান্য প্রাণী, বৃক্ষরাজি যে কত ধ্বংস হবে তাঁর ইয়ত্তা নেই।
২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর বিচারক প্যানেল শুনানি শুরু করেছে। ২০২৫ এর কোন একসময় কমিটি মতামত সম্বলিত রিপোর্ট অবমুক্ত করবে। যদিও সঠিক তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। কপ২৯ বা পূর্বেকার জাতিসংঘ আয়োজিত সম্মেলনগুলো আশান্বিত হওয়ার মত তেমন কোন সর্বসম্মত অ্যাকশন প্ল্যান নিতে পারেনি।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভানুয়াতুর জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি Ralph Regenvan বলেন, ‘কোন যুক্তিতে বিশ্বাস করা যায়না যে বিগত পঞ্চাশ বছরের ও বেশী সময় ব্যাপী আমরা শুধু কথার ফুলঝুরিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। কাজের কাজ কিছুই তেমন অর্জন করতে পারিনি।’ সত্যিই, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, ভানয়াতুসহ আরও অনেক উপকূলীয় দেশ তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। যে দেশগুলোর কারণে কার্বন নিঃসরিত হচ্ছে মাত্রাহীনভাবে তারা কিন্তু এ ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যৎ দুর্গতি, ধ্বংসলীলার দায়দায়িত্ব নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কিছু কিছু রাষ্ট্রনেতা জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর পেছনকার বিজ্ঞানে বিশ্বাসই করেন না। আল্লাহ তাদের সুমতি দিন কামনা করি।
Posted ১:৫২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh