ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
২০২৪ শেষ হওয়া অব্দি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ৮০২৪ টির মতো দাবানলের ঘটনা ঘটে গেলো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বেশিী দাবানল হচ্ছে যে ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু কিছু স্থান ভস্মে পরিণত হচ্ছে । ২০২৫ শুরুতেই দাবানল দস্তুরমত ভীতিজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। একবার শুরু হয়ে গেলে দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেও দাবানল নিয়ন্ত্রণ করা সুকঠিন।
বলে রাখা সমীচীন হবে, দাবানল কোন নতুন কিছু ব্যপার নয়। সৃষ্টির অনাদি কাল থেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে আসছে। ইদানিং সময়ে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়া, সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, ফসিল জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার, সীমাহীন মাত্রায় কার্বন উদ্গীরণ, মনুষ্যসৃষ্ট কারণে বিশ্বের তিন চতুরাংশ বনাঞ্চলের বৃক্ষের আচ্ছাদন বিলুপ্ত হওয়া ইত্তাকার কারণে দাবানলের মত হৃদয়বিদারক ঘটনা ইদানীং প্রায়ই ঘটছে।
২০২০ সালে একশো’রও বেশি দাবানল ঘটলে সরকারি হিসেবে ত্রিশজনের ও বেশি মানুষ মারা গেছে বলে জানা গেছে। কয়েক হাজার বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে, পূর্বেকার যে কোন বিধ্বংসী দাবানলের তুলনায় ২০২৫ জানুয়ারী তারিখে ঘণ্টায় ৮০ মাইল বেগে প্রবাহিতসান্টা অ্যানা নামীয় বায়ু প্রবাহের বাতাসের তোড়ে প্রজ্বলমান নিয়ন্ত্রনহীন দাবদাহ বা ওয়াইল্ড ফায়ার সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় হাজারো ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দেয়। কয়েক লক্ষ মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
২০১৫ এবং ২০২০ সালেও প্রচুর জমিজমা, অরণ্য পুড়েছিল কিন্তু ২০২৪ সালে ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ মুদ্রার অঙ্কে সারা দেশে ১.৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে জানা যায়।
ওয়াইল্ড ফায়ার বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। নাম ও বিভিন্ন। তবে নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে গেলে এগুলো ওয়াইল্ড ফায়ার রূপ পরিগ্রহ করে।
বাসস্থান, প্রপার্টি গ্রাস করা ছাড়াও বায়ুদূষণ, ফসলাদি, বনজ সম্পদ, যাতায়ত ব্যবস্থা, পশুপাখি ও মানুষের স্বাস্থ্য এসবেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। অধিকাংশ আগুন মানুষের অভেলাজনিত কারণে, যেমন সিগারেট ঠিকমত না নেভানো বয়া যত্রতত্র ছুড়ে ফেলা, ক্যাম্প ফায়ার ভাল করে না নেভানো, ইচ্ছাকৃত ভাবে আগুন লাগিয়ে দেয়া ইত্তোকার কারণে হয়ে থাকে। শুকনো মৌসুমে ঘাস, লতাপাতা আগুনের সামান্যতম সংস্পর্শ পেলে আগুন ধরতে এবং ছড়িয়ে পরতে দেরী হয় না। বজ্রপাতেও বনে জঙ্গলে আগুন লাগতে পারে। প্রাকৃতিক কারণের বাইরে অতি মাত্রায় কার্বন নিঃসরণ, মানুষের অসাবধানতা এবং প্রতিরোধের পর্যাপ্ত এবং সময়োচিত ব্যবস্থা নিতে না পারা ওয়াইল্ড দাবদাহের অন্যতম কারণ।
বন্য আগুনকে বশ্যে অ্যানা দুরূহ কাজ। ক্যালিফোর্নিয়ায় পানির সোর্সের ব্যবস্থাপনা থ্রুটিপূর্ণ ছিল বলে জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেস গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর এবং ফেমা সহযোগে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আমরা ভুলে যাই যে ৮৫% ওয়াইল্ড ফায়ার মানুষের কৃতকর্মে হয়ে থাকে। ১৫%র জন্য লাভা এবং বজ্রপাত দায়ী এমন তথ্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টেরিওর থেকে পাওয়া যায়।
Posted ৩:৪৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh