ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ০৬ মার্চ ২০২৫
মধ্য যুগে রাজারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারতেন। ইউরোপে মধ্যযুগে পোপের সাথে সদ্ভাব থাকলে তো কথাই নেই। ১০৫২ সালে ক্রুসেডের পাঁয়তারার পেছনে ইন্ধন যুগিয়েছিল মূলত ধর্মযাজকরা। ইউরোপ রাজ রাজড়া, রাজপুত্রদের মধ্যে পরস্পারিক যুদ্ধ এবং ঝগড়াঝাটি লেগে থাকলে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের মূল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অটুট থাকে, বিশেষত আরবান-দ্বিতীয় পোপ হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর। ১০৯৬-৯৯ প্রথম ক্রুসেড পোপ আরবান-দ্বিতীয় এবং বাইজেন্টাইন সম্রাট আলেক্সিয়াস-প্রথম এই দুই শক্তির আলাপ-আলোচনা থেকেই শুরু হয়।
কুশলী পোপ বাইজেনটাইন সম্রাটের উপর্যুপরি অনুরোধে তুর্কি আক্রমণের মুখে বলকান সাম্রাজ্য, দানিউব অঞ্চল এবং এশিয়া মাইনর রক্ষায় এগিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এমন এক পরিকল্পনা নেন যাতে এক ঢিলে দুই পাখী বধ করা সম্ভব হয়।
ধর্মযুদ্ধের পরিকল্পনা করেন যার ফলশ্রুতিতে বাইজেন্টাইন সম্রাটের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া পবিত্র স্থান জেরুজালেম উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং ইউরোপে রাজন্যবর্গের মধ্যে বিরাজমান আত্মকলহ ও বন্ধ করা যায়। পোপ আরবান দ্বিতীয় ক্রুসেডের প্রস্তুতিমূলক সফল প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে ইউরোপে সাড়া পড়ে যায় । ক্রুসেডে মৃত্যু হলেস্বর্গ লাভ নিশ্চিত, বেঁচে থাকলে ভূমি লাভ এবং সকল ধরনের পাপের মোচন এমন পুরস্কারের আশ্বাস পোপের কাছ থেকে পেয়ে জেরুজালেম পুনরুদ্ধাদের অভিলাষে ১০৯৯ সালের জুন মাসের ৭ তারিখে নগরীর দ্বারপ্রান্তে খ্রিস্টান বাহিনী পৌঁছে যায়। জুলাই মাসের তের তারিখে জেরুজালেমে প্রবেশ করতে সমর্থ হয় ।
প্রথম ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধে খ্রিস্টান সেনাবাহিনী ছিল বিরাট আকারের। পনের হাজার নাইটস ছাড়া ও ফ্রান্স , ইতালি, জার্মানী, এককথায় ইউরোপের সকল রাজন্য বর্গ সৈন্য পাঠিয়েছিল। জেরুজালেরের মিশরীয় গভর্নর এই বিরাট বাহিনী মোকাবেলা করার জন্য যে প্রস্তুতি দরকার ছিল তা ছিল না।
নগরীর পানির উৎস কুপগুলো নষ্ট করা ছাড়া আর কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তিনি নিতে পারেন নি। মুসলমান শাসকদের মধ্যেকার কলহ,বিশেষত শিয়া-সুন্নি বিভেদ তাদের যৌথ ভাবে খ্রিস্টান বাহিনী মোকাবেলা করার পথে বড় অন্তরায় ছিল।
দ্বিতীয় ক্রুসেডে(১১৪৭-৪৯) মুসলমানদের জয়ের পেছনে তাদের একতা ছাড়া ও খণ্ডখণ্ড যুদ্ধসমূহে খ্রিস্টানদের পরাজিত করতে সমর্থ হতে পারায় তাদের মানসিক ভাবে সবল করেছে, আরবদের যুদ্ধ কৌশলের প্রতি আস্থা এনে দিয়েছে। চূড়ান্তভাবে খ্রিস্টানরা হেরে যাওয়ার পেছনে অর্থলিপ্সা, হিংসা, ক্ষমতার মোহ তাদের বীরত্বের চেয়ে বেশী কাজ করেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে ১৩০৭ সালের এক শুক্রবার ১৩ই অক্টোবর ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ক্লিমেন্ট পঞ্চম এবং ফ্রান্সের রাজা ফিলিপ চতুর্থ ষড়যন্ত্র করে মিথ্যে অভিযোগে এক রাতে ৫৪ জন নাইট টেম্পলারসকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এই লোমহর্ষক ঘটনা নিয়েই রাজা কাহিনী।
(চলবে)
Posted ১:০৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৬ মার্চ ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh