ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ০১ মে ২০২৫
পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে দু দেশই প্রস্তুত। তুমুল উত্তেজনা সম্প্রতি ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে একটি জঙ্গী গোষ্ঠির আক্রমণে ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনায় (২৫ জন ভারতীয় এবং একজন নেপালি)। শোধ-প্রতিশোধের এ মরণ খেলা দু দেশের সীমান্তে, বিভক্ত কাশ্মীরে ১৯৪৭ সাল থেকে চলে আসছে। জাতিসঙ্ঘ ভোটের ভিত্তিতে মীমাংসা হউক এ প্রস্তাব বারবার উপেক্ষা করেছে। সিকিম, গোয়া, দমন, দিউ যেমন জবরদস্তির মাধ্যমে দখল করে নিয়ে তেমনি কায়দায় পাকিস্তানের বাধা পেয়ে কাশ্মীর দখল করতে না পারায় বেজায় ক্ষেপে আছে।
ভারতের দখলে কাশ্মীরে যে অংশ তা হিন্দু মেজরিরটি করার অপপ্রয়াস চালিয়ে ও কার্যকরভাবে মুসলমানের বিতাডন অদ্যাবদি সম্ভব হয়নি বিধায় নানাবিদ কালাকানুন, চানক্যীয় কৌশল প্রয়োগ করছে অহরহ। বর্তমানে বিদ্যমান অবস্থায় যুদ্ধ যে কোন সময় লেগে যেতে পারে। ভারতে উগ্র, ধর্মান্ধ বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতা ও তাদের অনুসারী জনসাধারণ যুদ্ধের পক্ষে। পাকিস্তানে ও অবস্থা তেমনই। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গন কি হয় দেখার জন্য বসে আসে। যুদ্ধ সরঞ্জামাদির টেষ্টিং মাঠ হবে এ যুদ্ধ এমনটি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা বিশ্বের ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া এবং চীন মনে করছে। দেদারসে মজুত করছে বিক্রীর জন্য। বিবাদমান দেশ দুটো ছাড়া ও ক্রয় করতে আগ্রহীরা শকুন দৃষ্টিতে নজর রাখছে।
ধর্ম নিয়ে উগ্র মনোভাব ভারতে পুরাকালেও ছিল। রামায়ণ, মহাভারত মূলত যুদ্ধ সম্বলিত ধর্ম কাহিনী। কুরুক্ষেত্র, রাম-রাবণ লড়াই এসবই কল্পকথা, ধর্ম-অধর্মের লড়াই বলে পন্ডিতেরা যুক্তি দেখাতে প্রয়াস নিয়েছেন বটে তবে এসব উগ্র অন্ধ ধর্মান্ধতা প্রসূত। পাকিস্তান নামের ভূ-খন্ড খৃষ্টের জন্মেরও বহু পূর্ব থেকেই বহিরাগতদের সাথে, নিজেদের মধ্যে, গোত্রে গোত্রে বাদ-বিসম্বাদ, লডাইয়ে লিপ্ত থেকেছে – অসত্য ঐতিহাসিক ভাবে স্বীকৃত। এ ধারা অধিবাসীদের মানসিকতায় গভীর ভাবে প্রোথিত। বর্তমান সময়েও শিয়া-সুন্নী, পাঠান, বালুচ, আফগান এদের মধ্যেকার বিভেদ, লড়াই প্রায় নিত্য ব্যাপার। ধর্মান্ধতা, কঠিন কঠোর সামাজিক জীবন ইন্ধন যোগান দিতে কসুর করেনি কোন কালেই।
১৯৪৭ আগষ্ট মাসের পর থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতের মধ্যে তিনটি সর্বাত্মক যুদ্ধ হয়েছে। ঐতিহাসিক সত্য, ধর্মীয়, সামাজিক বাস্তবতা এবং মনস্তত্ত্ব উপমহাদেশ বিভক্তি, এবং নিত্য যুদ্ধংদেহি মনোভাব অতীতের মত এ আধুনিক, পরিবর্তিত সময়ে ও বিদ্যমান আছে। বর্তমান অবস্থা এমন যে যে কোন সময়ে যুদ্ধ লেগে যেতে পারে।
আফগানিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির কারণে বিগত এক দশক সময় ভারত পাকিস্তান সীমান্ত বেশ শান্ত ছিল। প্রেসিটেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা ভাবে বলেছেন, They,ll get it figured out one way or the other„ There,s great tension between Pakistan and India, but there always has been. (NBC News, April 30,2025 by Mithi Agarwal).
কাশ্মীরকে একসময় ভূ-স্বর্গ হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো। স্ন্দুর রমণী ঘিরে যেমন ছোট-বড়ো অসংখ্য যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে তেমনি নয়নাভিরাম ভূ-খন্ড নিতেও যুদ্ধের পায়তারা চলে যার উদাহরণ কাশ্মীর। তবে, ধর্মীয় উন্মাদনা, জাত্যাভিমান এসব সযত্নে পরিহার করে নিউক্লিয়ার শক্তিমত্ত দেশ দুটো নিজেদের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচিয়ে রাখবে এমন আশাবাদ শান্তিকামী মানুষের।
Posted ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ মে ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh