ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
ধর্মে বিভক্তি নেই এমন উদাহরণ পাওয়া দুষ্কর। সুপ্রাচীন ধর্মগুলোর ইতিহাস ঘাটলে এ বক্তব্যের প্রমাণ মেলে। বৌদ্ধ ধর্মে হীনযান-মহাযান, হিন্দু ধর্মে প্রতি দেব-দেবী ঘিরে অসংখ্য মতবাদ এ তথ্য সকলেরই কমবেশী জানা। ইসলাম ধর্মে শিয়া-সুন্নী বিভক্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তেমন সুবিদিত নয় অনেকেই।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওফাতের পূর্বেই তাঁর শ্বশুর এবং আমীরুল মোমিনুল হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিআল্লাহু আনহুকে ইসলামের প্রথম খলিফা মনোনয়নের ব্যাপারে সুস্পষ্ট আভাস ইঙ্গিত দেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নামাজে ইমামতি করার দায়িত্ব অর্পণ করেন। পরবর্তীতে ৬৩২ খৃষ্টাব্দে খলিফা মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
মুসলমানদের উল্লেখযোগ্য অংশ মতপোষন করেন যে কাউন্সিলের মতামত ও সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে কে খলিফা হবেন। আর একটি দল মনে করে যে নবী করিমের চাচাত ভাই এবং মেয়ের জামাই হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাজি আল্লাহু আনহু খলিফা নির্বাচনের যোগ্যতম প্রার্থী। চতুর্থ খলিফা এবং খোলাফায়ে রাশেদার শেষ খলিফা হযরত আলী রাদি আল্লাহু আনহুর শাহাদতের মধ্য দিয়ে খোলাফায়ে রাশেদার স্বর্ণযুগের অবসান ঘটে।
একই ঘটনায় উত্তরাধিকার জটিলতা চরম আকার ধারণ করে। দামেস্ক কেন্দ্রিক মুআবিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ মক্কা কেন্দ্রিক অধিকাংশ মুসলমান মেনে নিতে পারেনি । হযরত আলী রাদি আল্লাহু আনহু’র দুই পুত্র হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হোসেন রাদি আল্লাহু আনহু ভ্রাতৃদ্বয়ের খলিফা হিসেবে নিযুক্তিই যৌক্তিক মনে হয়েছিল। পরিস্থিতি ঘোলাটে আকার ধারণ করলে আলোচনার জন্য রসুলের এক দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন কুফার পথে গমনের কারবালা পৌঁছলে মুআ’বিয়া পুত্র ইয়াজিদ বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে শাহাদত বরন করেন । এ ঘটনা শিয়া এবং সুন্নী বিভক্তি চূড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করতে সহায়তা করে ।
স্মরণ করা যেতে পারে যে হযরত আলী নিহত হলে তাঁর অনুসারীদের অধিকাংশই উম্মাইয়াদের খেলাফতে দাবী মেনে নিতে রাজী হননি। সিয়াত আলী বা আলী (রা)’র দল বা অনুসারীগণ শিয়া পন্থা অনুসরণ করতে থাকে। বর্তমান বিশ্বে ১৫ শতাংশের মত মুসলমান শিয়া এবং বাকীরা সুন্নী হলেও ইমামদের নেতৃত্বে এরা মিশর, ইরানসহ অনেক দেশেই পরাক্রমশালী ছিল। আব্বাসীয় খেলাফতের সময় শিয়াদের উপর নির্মম অত্যাচার করা হয়। সুন্নীপন্থী মুসলমানরা আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। শিয়ারা বিশ্বাসে অবিচল যে সঠিক ভাবে নির্বাচিত ইমামই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাম আলাইহি তায়লাব বংশধর থেকে আগত বিধায় সঠিক ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
ওমাইয় বনাম আব্বাসীয় মতবাদ প্রসংগ নিয়ে ,আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ইমাম ফয়সাল আব্দুর রউফ বলেন, (these) ideological struggles resulted in what became known as the Sunni position, namely, that the community need not be headed by a descendant of the Prophet as long as it was governed by the rule of Law. The Shiites maintained the idea of rule by the Rightly Guided Imam, understood to be a descendant of the Prophet, until the Iranian revolution in 1979 and Imam Khomeinis articulation o the idea of the of the Vilayet-i-Farquhar (rule by the Jurisprudence), which regarded the jurist abided by the Shariah as stand-in for the Rightly Guided Imam. (see, Imam Feisal Abdul Rouf, What is Right with Islam is What’s Right with America, HarperCollins 2005, p.189).
বর্তমানে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দূর্বল হলেও ইরানে জনসংখ্যার ৫০ শতাংশেরও বেশী অধিবাসী শিয়া সম্প্রদায় ভুক্ত। ইমাম আয়েতুল্লাহ খোমেনীর। নির্দেশনা সিরিয়া, ইয়ামেন, তুরস্ক, লেবানন, ইরাক- এসব দেশে এদের বিস্তর প্রভাব রয়েছে। ক্রুসেডের সময় থেকে মুসলমানদের শিয়া-সুন্নী বিভক্তির সুযোগ নিয়ে খ্রিস্টান রাষ্ট্র নায়কগন যুদ্ধবিগ্রহে সুবিধা নিয়েছে। বর্তমানে ও পশ্চিমা বিশ্ব এ বিরোধ, বিভক্তিকে ইসরাইয়ল-হামাস, হুতি, লেবাননে (বাকি অংশ ৪৮ পাতায়)
শিয়া-সুন্নী বিভক্তি কমে আসছে
হিজবুল্লাহ, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরাক তথা মুসলিম বিশ্বে অশান্ত পরিস্থিতি নিজেদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে। তুরস্কে কূর্দী বিদ্রোহীদের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং শান্তি স্থাপনের প্রস্ত্াবের পরপরই সম্প্রতি সউদী আরবের ৮৯ বছর বয়স্ক কিং সালমান বিন আব্দুল আজিজ তার পুত্র প্রিন্স খালেদ বিন সলমানকে (যিনি একসময় ওয়াশিংটনে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ছিলেন) গোপনে ইরানে সাংকেতিক পত্র দিয়ে পাঠিয়েছেন ইরানের ইমাম খোমেনীর কাছে। মুসলিম বিশ্বের এ দু’টো ঘটনার তাৎপর্য অপরিসীম।
Posted ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh