ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
ভালোবাসা, প্রেম, ভালোলাগাসহ বিভিন্ন ধরনের হৃদয় ঘটিত ব্যাপারে ফারাক আছে। সুক্ষ থেকে দুস্তর। সম্প্রতি আমার একজন প্রিয়জনের লেখা একটি ছোট গল্প পড়ে মনে হোল প্রেম বিষয়ক জটিলতা নিয়ে কিছু লিখি। সময়ে সময়ে অনিবিষ্ট মন নিয়ে পড়া, দূর কিংবা কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ বা শোনা (গীবত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী) এমন রমরমা রসালো বিষয় নিয়ে চর্চা করতে প্রলুব্ধ করে । তবে গল্পকারকে যে দৃষ্টিতে দেখি তা শুদ্ধ চিত্তের এবং প্রশংসা থেকে উৎসারিত।
রকমফের থাকলেও প্রেমের অনুভতি, সুড়সুড়ির মধ্যে একটি মনোলোভা ভাব আছে। অন্যথায় প্রেমের দরোজার অর্গল উন্মোচিত হতোনা। সমস্যা হলো, প্রেম মগজ নয়, মনস্বত্বে কাজ করে। মনোজগৎ বড় বিচিত্র, প্রহেলিকাময়। নইলে তিরিশ চল্লিশ বছর একসাথে কাটিয়ে সন্তানাদি বড় হয়ে চাকরি-বাকরি করছে জীবনের এমন পর্যায়ে বয়স্ক লোকের সাথে প্রেম সংসারে অশান্তির অশনি সংকেত।
যে সময়ে ছেলে মেয়ের বিয়ে শাদীর বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার কথা, দস্তুরমত দুশ্চিন্তা নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটানোর কথা, সেখানে স্বার্থপরের মত নিজের পড়ন্ত বেলার এহেন সুখানুভূতি নিয়ে চিন্তা করে ক্ষেপণবোধ অযৌক্তিক। তবে, মনোরাজ্যে, প্রেমজগতে অহরহ এমন ঘটে বলে গেছেন প্রাত:স্মরণীয় বিশারদজন। প্রেম আবেগতাড়িত এবং একান্তভাবে নিজের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়। আত্মতুষ্টি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। সৃষ্টির আদিকাল থেকেই চলে আসছে নারী পুরুষের পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ-বিসর্জন খেলা। মনিষী ভলহেতয়ার বলেন, যুক্তি নয়, বন্য এক নির্বোধ আবেগ প্রেমে কাজ করে (Love is the triumph of stupidity over reason)।
প্রেমিকের সকল দৃষ্টিকটু আচরণ, অতীত স্বভাবের কাহিনি ও কথন জানলেও তার নিরিখে গ্রহণযোগ্যতার অভাব চোখে পরে না। প্রেম তাই অন্ধ। উনিশ শত শতাব্দীর প্রথম দিকে সুপ্রসিদ্ধ প্রেম বিশারদ স্টেন্ডাল (Stendhal) তার The Crystallization of Love প্রবন্ধে বলেন, We overlook the flaws, imperfections and inconsistencies in people we love.” অনুরাগ পর্বে চার চোখের মিলন ঘটলে মন দেয়া নেয়ার খেলা শুরু হয়। নায়িকা সুমনা অভিজ্ঞ বয়স্ক শিকারির শরাঘাতে বিদ্ধ হয়ে উষ্ণ এবং তীব্র আকর্ষণ বোধ করে। রোমাঞ্চের এ সুচনা পর্বে প্রেম বড়শী খেলানো অভিজ্ঞ শিকারির জন্য রমাঞ্চকর খেলা। মজা তার এ পর্বেই।
সহানুভুতি দেখাতে গিয়েও অনুরাগ হতে পারে। রবিন কায়দা করে জেনে নিল যে, সুমনা সুখী নয়। গল্পটার পরিসমাপ্তি ছোটগল্পের ক্ষেত্রে যেমন হয় তেমনি হয়েছে। গল্পকার বড় মেয়ে তিথির জিজ্ঞাসার জবাবে বললো, “হয়তো আমি নিজেকেই খুঁজে নিচ্ছি, মা হিসেবে নয়, নারী হিসেবে।”
এ ধরণের বোধ থেকে যে খোলামেলা স্বীকারোক্তির প্রশংসা করতেই হয়। তবে রতন এবং মেয়েদের অর্থাৎ তিরিশ বছরের সাজানো সংসারের জন্য কি অশনি সংকেত ? নিশ্চিত, সাময়িক এ মোহ সুকঠিন বাস্তবের মুখে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। ‘ভ্যানেটি লাভ’ সাময়িক আনন্দ দিতে পারলেও ভবিষ্যৎ সুখ শান্তির কথা চিন্তায় আনলেও তা ঊবে যাবে।
Posted ১০:১৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh