ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
বড় ধরণের সামরিক বিরোধ যা সংঘর্ষে পরিণত হতে তেমন বিলম্ব হয়নি এমন ঘটনার সংখ্যা ১৮৪ টি । এর মধ্যে কংগ্রেস অনুমোদিত যুদ্ধের সংখ্যা পাঁচটি । আনুষ্ঠানিক যুদ্ধের এ তালিকায় ১৮১২ সালে যুক্তরাজ্যের বিরদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধের কথা প্রথমেই উল্লেখ করতে হয়। পরবরতিতে মেক্সিকান-আমেরিকান ওয়ার, স্পেনিস-আমেরিকান ওয়ার, প্রথম বিশ্ব যুদ্ধঃ প্রতিপক্ষ- জার্মানি, অষ্ট্রিয়া- হাঙ্গেরি), এবং দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ (প্রতিপক্ষঃ জার্মানি , জাপান, ইতালি, বুলগেরিয়া, হাঙ্গারি এবং রুমানিয়া । দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর কোল্ড ওয়ারের যুগ শুরু হয়।
পৃথিবী আদর্শিক দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়। বলা হয় শীতল যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বাধ্য করেছে। আধিপত্য বিস্তার এবং মিত্রদের সহায়তা করার কথা বলা হয়, তবে যুদ্ধ বা সে রকম পরিস্থিতি বিরাজমান না থাকলে অস্র ব্যবসা রমরমা ভাবে চলে না, এ সত্যটি তেমন ফলাও করে জনসমক্ষে প্রচারিত হয়না।
মিত্র দেশ আক্রান্ত হলে বৃহৎ শক্তিগুলো লম্ফ জম্প করে মাঠে নামে প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষ ভাবে সহায়তার নাম করে কিন্ত বাস্তবে আক্রমনকারী এবং আক্রান্ত দু পক্ষের কাছেই অস্র বেঁচে নানান কায়দায়। সামরিক সরঞ্জামাদির কাটতির পরিবেশ সৃষ্টি হয় এহেন প্রেক্ষাপটেই।
যুক্তরাষ্ট্র ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিল বা এখনো আছে এমন কিছু ঘটনার উল্লেখ করলে প্রেসিডেণ্ট লিন্ডন বি জনসন সময়ের ভিয়েতনাম যুদ্ধের কথা সর্বপ্রথমেই আসে। জনসনের প্রেসিডেন্সি পতনের জ্ন্য দীর্ঘস্থায়ী এ যুদ্ধ দায়ী ছিল। আদর্শ সমুন্নত রাখতে এবং সমাজতন্ত এবং রাশিয়ান আধিপত্য রুখতে প্রচার করা হলেও ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের কার্যকারিতা পরিক্ষা নিরিক্ষার সুযোগ এনে দেয় দু’শিবিরের জন্যই। উল্লেখ করা এতে পারে যে কোরিয়ান ওয়ার, ভিয়েতনাম জুদ্ধ, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা ওয়ার অন টেরর (উদাহরণ, আফগানিস্তান এবং ইরাকও ইরান যুদ্ধ, ইয়ামেনি সিভিল ওয়ার এবং সোমালি সিভিল ওয়ার।
অতি সম্প্রতি সিরিয়ান সিভিল ওয়ার হয়ে গেল। হাফেজ আল আসাদ প্রাণ নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বাঁচলেন। এতেও যুক্তরাষ্ট্র জড়িত ছিল। মধ্য প্রাচের গাজা, ইসরায়েল -হিজবুল্লাহ বিরোধ, লেবাননে ইরান ইসরায়েলের দন্ধের কারনে অস্তিরতা এর সবকয়টিতে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ বলে চালিয়ে যাচ্ছেদ প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ব্যতিরেকেই। ইরানের আনবিক স্থাপনা ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত ও ছিল নির্বাহী আদেশে। ইরানের সাথে ইসরায়েলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য মিত্র হওয়ার সুবাদে ইরান ইসরায়েলের মধ্যে গত জুনে @)২০২৫ এ যে ১২ দিনের যুদ্ধ হয় তাতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ভাবে ইসরায়েলকে সহায়তা প্রধান করে। ইয়ামেনের হুতি বাহিনির লোহিত সাগরে বানিজ্য তরি আক্রমণ ঠেকাতে আমেরিকা সক্রিয় ভুমিকা পালন করে আসছে। ইরানের এই মিত্র টেরর দলটিকে কোণঠাসা করে দুর্বিপাকে নিপতিত করে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত রেজা শাহ পাহলভি আয়াতুল্লাহ খমেনি এবং তার মোল্লা গোষ্ঠীর সফল অভ্যুদয়ের ফলশ্রুতিতে দেশ ছেড়ে পলায়ন করলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে যে নতুন সমিকরন শুরু হয় তার পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যায়ন করা হয়। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধনকুবের রথচাইল্ড একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে আর্থিক সহাহতা প্রদানের প্রতিজ্ঞা থেকে উৎসারিত। যুক্তরাষ্ট্র এবং বেশ্রী ভাগ ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো প্রতিজ্ঞা রক্ষা করে চলেছে।
ইসরায়েলের বিরোধিতায় ইরান এবং তার মিত্ররা একজোট হয়েও সুবিধা করতে পারছেনা ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাতকঠিন সমর্থনের কারণে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যেকার শিয়া-সুন্নি বিভক্তি, ঐতিহাসিক আন্ত:কোন্দল নিজেদের উদ্যোগে যে কোন সমস্যা সমাধান অসম্ভব করে তুলছে । ইরানের পারমাণবিক চুল্লি ধ্বংস করার যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের যে পণ তার উপর নির্ভর করে মধ্যপ্রাচ্যের শন্তি ও স্তিতাবস্থা।
Posted ১২:৩৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh