ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্বের অনেকগুলো দেশে, স্থানে যুদ্ধের দামামা বাজছে। শক্তিধর রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের তিন বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলো। বিস্তীর্ণ শিল্পাঞ্চল, বন্দর এবং সুবৃহৎ পারমাণবিক কেন্দ্র ছেড়ে দেওয়া, ন্যাটো জোটে যোগদান না করা এবং সৈন্যসংখ্যা সীমিতকরণসহ অনেকগুলো শর্ত দিয়েছেন পুতিন। এগারো বছর আগে ১৯১৪ সালে রাশিয়া ক্রাইমিয়া দখল করে হজম করে ফেলেছে। কেউ তেমন জোরালোভাবে এ আক্রমণ প্রতিহত করতে এগিয়ে আসেনি।
রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে শুরুতে আমেরিকা জো বাইডেনের সক্রিয় সমর্থনে রাশিয়ার প্রতি অর্থনৈতিক অবরোধ কৌশল অবলম্বন করে এবং যুদ্ধ সরঞ্জামাদি ক্রয়ের জন্য অর্থ সাহায্য অনুমোদন করে। প্রসিডেন্ট ট্রাম্প সে পথ থেকে অনেকটাই সরে আসেন। আপোস এবং সন্ধির উপর জোর দেন। দীর্ঘসুত্রিতার সুযোগ নিয়ে রাশিয়া আকাশ ও স্হল পথে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ব্যব্যবহার বাড়িয়ে দিয়ে ইউক্রেনকে নাস্তানাবুদ করে যাচ্ছে। রাশিয়ার এহেন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ প্রতিপক্ষ তেমনভাবে সংগঠিত হতে পেরেছে বলা যাবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিশাল খনিজ তেল কুক্ষিগত করতেই বেশি আগ্রহী যদিও দেশটির অগণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে দিয়ে স্বপক্ষ শক্তিকে রাজনৈতিক ফায়দা দেয়ার পাঁয়তারা করছেন। কৌশল হিসেবে বলছেন আমেরিকায় ড্রাগ পাচার চক্রের ভেনেজুয়েলা জলপথের পুরোপুরি নির্মূলই তার লক্ষ্য।
ভেনেজুয়েলা, গাজা, ইউক্রেন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যস্ততার সুযোগ নিয় চীন তাইওয়ানে আগ্রাসন অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে । চীন ষষ্ঠবারের মত যুদ্ধ মহড়ার বিশাল আয়োজন বাস্তবায়ন করছে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে। উলেখ করা যেতে পারে যে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তদানীন্তন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইপে সফর করা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ায় চীন তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলে প্রথম বড়সড় মহড়া করেছিল। ২০২৫ এর বর্ষশেষে এ সামরিক মহড়াটি অনেক বড় আকারের। এর আয়োজনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচির হুমকিমূলক মন্তব্য দায়ী বলে অনেকে মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, চীন তাইওয়ান আকর্মণ করলে জাপান বসে থাকবেনা । মিত্র হিসেবে তাইওয়ানের পাশে থাকবে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। এর সাথে তাইপের কাছে ১১.১ বিলিয়ন ডলারের আধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রির যে প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে তা যোগ হয়ে চীনের গোস্বা অনেকগুণ বেড়েছে। তাই, অনতিবিলম্বে শুধু প্রতিবাদ নয়, যুদ্ধমহডার আয়োজন করে চীন জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চায় যে শক্তিশালী চীন যেভাবেই হোক তাইওয়ান দখল করবেই।
চীন নিয়তই বলে আসছে যে তাইওয়ান চীন মূল ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চলমান এ সামরিক মহড়ার ফলশ্রুতিতে তাইওয়ানের আন্তর্জাতিক ও অনেক আভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, অষ্ট্রেলিয়া এবং ফিলিপাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাইওয়ানের নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। তাইওয়ানের সুরক্ষায় দেশগুলো সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা যায়। তবে, বাস্তবে চীনের সামরিক প্রস্তুতির কাছে তাইওয়ানের প্রস্তুতি এবং মিত্র ভাবাপন্ন দেশগুলোর অঙ্গীকার নেহাতই অপ্রতুল বলে মনে হয়।
চীন প্রথমবারের মতো অনেক ধরণের নতুন প্রযুক্তি, যেমন স্বয়ংক্রিয় রোবট, ক্ষেপণাস্ত্র, মাইক্রোড্রোন, রোবটিক কুকুর বাহিনী নিয়োগ করবে বলে জানিয়েছে যা ইতিপূর্বে দেশটি প্রদর্শন করেনি। পক্ষান্তরে, তাইওয়ানের সংগ্রহে আছে আমেরিকার তৈরি হিমারস্ রকেট সিস্টেম যা ৩০০ কিমি বা ১৮৬ দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা বা ডিফেন্স মন্ত্রনালয়ের ভাষা অনুযায়ী চীন এ মহড়ায় এ পর্যন্ত ৮৯টি সামরিক যুদ্ধবিমান, ১৪টি সামরিক নৌযান, এবং আরো ১৪টি কোষ্টগার্ড নৌযান ব্যবহার করছে। চারটি বড়ো আকারের যুদ্ধজাহাজ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েন রেখেছে। আশার কথা চীন, তাইওয়ান, জাপান কনফুসিয়াস সংস্কৃতির ধারক বাহক বিধায় তারা বড়ো ধরণের ধ্বংসাত্মক কিছু নাও করতে পারে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিন্জ চীনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের কথা বলছেন, তবে, শান্তির জন্য আত্মরক্ষার প্রস্তুতি ও প্রয়োজন এ কথা ও বলেছেন।
Posted ১২:৫৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh