আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
সিরিয়ার আসাদ শাসনের পতন মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার ভূমিকা ও উপস্থিতি খর্ব করলেও সম্প্রতি তা পুষিয়ে যাওয়া লক্ষণ পরিস্ফুট হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। গত সপ্তাহে ইসরাইল কাস্পিয়ান সাগরে হামলা চালিয়ে ইরানের বেশ কটি মিসাইল বোটে আঘাত করে।
ইসরাইলের ভাষ্যমতে এ হামলার ফলশ্রুতিতে ইরানের নৌবাহিনী খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । এ ভাষ্যের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ তবে রাজনীতির খেলায় ইরান লাভবান হয়েছে।
কাস্পিয়ান সাগর নিয়ে রাশিয়া এবং ইরানের মধ্যে অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে কারণ দুই দেশের সীমান্ত রয়েছে সাগর এলাকায় যা দখলমুক্ত রাখতে দুই দেশই ওয়াদাবদ্ধ। রাশিয়া এ সময়ে ইরানের পাশে থেকে পাকাপোক্ত ভাবে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও জাঁকিয়ে বসতে যাচ্ছে।
আমেরিকা খোলাখুলি ভাবে ইরানকে স্পাই ওয়্যার দিয়ে সহায়তা করছে। অস্বীকার করলেও রাশিয়া বলছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ভূমিছাড়ের বিষয়ে চাপ প্রয়োগ না করলে এমন উদারতা ইরান পেতে পারে। তেল, কাস্পিয়ান সাগর, লোহিত সাগর, কৃষ্ণ সাগর সহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থ অভিন্ন। ইয়েমেনের হুতিরা বেশ জবরদস্তভাবে লোহিত সাগর নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করছে। ইরান যেমন নিশ্ছিদ্র অবরোধে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করতে কৃতকার্য হয়েছে তেমনটি না হলেও হুতিরা লোহিত সাগরে তেলবাহী জাহাজগুলো চলাচল বিঘ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।
এ দুই ক্ষেত্রে আমেরিকা এবং ইসরাইল তেমন কিছু করতে পারেনি যদিও অপারেশন ইপিক ফিউরি এবং অপারেশন মিড নাইট সামার ইরানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রামের ক্ষতিসাধন, খোমেনিসহ উল্লেখযোগ্য নেতাদের ইসরাইলের সক্রিয় সহায়তায় হত্যা করতে সমর্থ হয়েছে।
হেজবুল্লাহ, হোতিদের সাথে রাশিয়া যুক্ত হলে উত্তর কোরিয়া, চীন এ দুই নিউক্লিয়ার শক্তিও নড়েচড়ে ইরানের হাতকে শক্তিশালী করবে। ট্রাম্পের কিউবা নিয়ন্ত্রণের হুমকি রাশিয়া খুব সহজ ভাবে নেবে বলে মনে হয় না। ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা রাশিয়া-ইরান যোগসূত্রের ফ্যাক্টর গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনতেই হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল অক্ষের জন্য তা বিপজ্জনক হতে বাধ্য।
Posted ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh