ড. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ : | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধ যেন শেষ হতে চায় না। ১৯৭১ এর অর্জনে দেশগঠনের সুকঠিন ব্রত, দায়িত্ব যেখানে বেড়ে যাওয়ার কথা সেখানে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সীমাহীন অবক্ষয় আর রুচির দুর্ভিক্ষ রূঢ় বাস্তবতায় পরিলক্ষিত হচ্ছে। সবচেয়ে বড় আঘাত যা নিয়তই দেশকে, জাতিকে ক্ষতবিক্ষত করছে তাহলো দেশপ্রেমের অভাব। ক্ষুদ্র স্বার্থে, লোভ লোলুপতায়, দখল আর লোভ মনোবৃত্তির লেলিহান শিখা আমাদের ব্যক্তিসত্তা, জাতীয় চরিত্রকে কলুষতার চরম পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর যোজন যোজন দূরত্বে।
নৈরাজ্যের বাংলাদেশ নিয়ে হতাশাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কম নয়। আসলে সমাজটি রোগাক্রান্ত, মানুষ হিসেবে আমরা অধিকাংশই খ্যাপা স্বভাবের। পরনিন্দা, পরচর্চা যেন আমাদের মজ্জাগত হয়ে গেছে। আশার কথা সংখ্যায় কম হলেও কিছু লোক সমাজকে, দেশকে সঠিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমার দেখা এমনই একজন মানুষ হলেন আলিম তালুকদার। পেশায় আইনজীবী। আমার জেলা হবিগঞ্জের বাসিন্দা।
ওকালতি পেশার দায়িত্ব পালনের সাথে সময় করে বাংলাদেশের মানচিত্র স্কুলের শিক্ষার্থীদের সহজবোধ্য, হাস্যরসে শেখানোর কৌশল উদ্ভাবন করতে ব্যস্ত থাকেন। আমার সাথে মাত্র একবারের সাক্ষাতে তিনি আমাকে তার এ নেশার ভক্ত করে নিয়েছেন। কেন আমি এই বিদেশ বিভুঁইয়ে এডভোকেট আব্দুল আলীমকে নিয়ে ব্যস্ত ? তার মানচিত্র শেখানো বিষয়টির একটি সুগভীর উদ্দেশ্য, ব্যঞ্জনা রয়েছে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশের ভৌগোলিক আর রাজনৈতিক মানচিত্র রপ্ত করা নিয়ে কিশোর মনে আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারলে তা দেশপ্রেম মূল্যবোধের রূপ নিতে বাধ্য যা আলীম তালুকদারের মজা করে শেখানো, শেখার কৌশল ও আগ্রহে সহজভাবে শিশু কিশোরদের মন মগজ তথা মানসিকতায় বপন করা যায়। আশা, একদিন অঙ্কুরোদগম হবে, শেকড় ছড়িয়ে পড়বে দিকেদিকে, পল্লবিত হয়ে ছায়াদানকারী সমাজ, জন্ম নিবে একটি জেনারেশনের যাদের কাছে টেকসই জাতীয় স্বার্থ সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ কিশোর কিশোরী, তরুণ তরুণী দেশের আপামর জনসাধারণকে এক পতাকার প্রতীক বুকে ধারণ করে দেশসেরা, দেশটাকে উন্নত দেশ, জাতি হিসেবে সুপরিচিত, সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
আলীম তালুকদারের মানচিত্র পরিচিতি করা করানোর উদ্যোগটি একটি মহান, নৈতিক এবং মানবিক দায়িত্ব পালনের আন্তরিক প্রয়াস থেকে এসেছে। কিশোর তরুণদের দেশের ভৌগোলিক পরিচিতি জানা মানে বাংলাদেশের সীমানা, নদ-নদী, পাখি, পাহাড়, দ্বীপ এবং প্রশাসনিক অঞ্চল, যেমন ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা, অভয়ারণ্য ইত্যাকার বিষয়গুলো জানা সহজ হবে। রাজনৈতিক ভুগোল জানা ও যে জরুরি তা তালুকদার ভোলেননি। মানচিত্রেকে বন্দনাগীতের মতো করে বাংলাদেশের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম সীমানায় কোন কোন দেশ, সাগর অবস্থিত তাও বয়ান করেছেন।
কিশোর, তরুণ ছাত্র-ছাত্রী সুস্হ এবং শুদ্ধ জীবন সম্পর্কে সচেতন হতে গভীর দেশপ্রেম থাকতে হবে। মানচিত্রে দেশ, পরিবেশ, প্রকৃতি জানতে পারলে মাতৃভূমি এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, ভালোবাসা গভীর হবে। মানচিত্র, বন্দনা এজন্য আমাদের হৃদপিণ্ড। মানচিত্র পরিচিতি রপ্ত করতে মাত্র নয় দিন (প্রতিদিন নয় মিনিট চর্চা বা মনোনিবেশ করলে) লাগবে এ আশাবাদ পোষণ করেন আলিম তালুকদার। তবে এ শেখা থেকে ‘দেশপ্রেম’ মূল্যবোধ আত্মস্থ করতে অনুশীলন করতে হবে এককভাবে, দলীয় এবং সামাজিক ভাবে। একসময়ে দেশপ্রেম নিশ্চয়ই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে।
Posted ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh